চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় অবস্থিত একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে শুরু হওয়া এই আগুন এখন পর্যন্ত পুরো নয়তলা ভবনের নিচতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড নামের ওই কারখানার সাততলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই তা ভয়াবহ রূপ নেয় এবং পাশের জিহং মেডিকেল কোম্পানির গুদামেও ছড়িয়ে পড়ে। দুটি কারখানার ভেতরে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে থাকা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন,
“আগুনের তাপ এতটাই তীব্র যে সদস্যরা ভবনের কাছে যেতে পারছেন না। দূর থেকে পানি ছিটিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।”
আগুনের তাপে আশপাশের ভবনগুলোও অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় অন্যান্য কারখানার কর্মীরা নিজ উদ্যোগে পানি ছিটিয়ে ভবন ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছেন।
ফায়ার সার্ভিসের ২৩টি ইউনিট, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ আগুন নেভানোর কাজ করছে। চট্টগ্রাম বন্দর, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, কালুরঘাট ও চন্দনপুরা স্টেশনের ইউনিটগুলো টানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সন্ধ্যার পর থেকে আগুনের তীব্রতা আরও বাড়তে থাকায় উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছে দুই প্লাটুন বিজিবি। আশপাশের সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এলাকাটি সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে আগুন লাগার সময় কারখানার সব শ্রমিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা ভবনের ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ভবনের ছাদ ধসে পড়ছে এবং আগুনের ফুলকি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন যাতে আগুন পাশের কারখানায় ছড়িয়ে না পড়ে।
রাত ১০টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুনের উৎসস্থল ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।