২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের জন্য ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকামী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও ২০০৬ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার এক বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমি মারিয়া করিনা মাচাদোকে আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে অভিনন্দন জানাই। তিনি তাঁর প্রিয় ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে যে দৃঢ় লড়াই চালিয়ে গেছেন, তা এক অনন্য উদাহরণ। নির্যাতন, নিপীড়ন ও নানা বাধার মুখেও তিনি কখনো থেমে যাননি। তাঁর দেশের জনগণের জন্য একটি স্বাধীন ও ন্যায়পরায়ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।”
ইউনূস আরও বলেন, “গণতন্ত্র নির্ভর করে তাঁদের ওপর, যারা নীরব থাকতে অস্বীকার করেন, যারা ঝুঁকি নিয়ে সামনে আসেন এবং যারা আমাদের মনে করিয়ে দেন— স্বাধীনতা কোনো সহজলভ্য বিষয় নয়, সেটিকে রক্ষা করতে হয় সাহস, ত্যাগ ও দৃঢ়তার মাধ্যমে।”
অধ্যাপক ইউনূস জানান, মারিয়া করিনা মাচাদোর নেতৃত্ব কেবল ভেনেজুয়েলার জন্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর সাহস ও দৃঢ়তা বিশ্বের সকল স্বাধীনতাকামী মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “মাচাদো এক উত্তম বিশ্বের স্বপ্ন দেখেছেন এবং সেটিকে বাস্তবে রূপ দিতে নিরন্তর সংগ্রাম করেছেন। তাঁর এই সাফল্য ভেনেজুয়েলাসহ সমগ্র বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠবে।”
বার্তার শেষে অধ্যাপক ইউনূস পুনরায় বলেন, “অভিনন্দন মারিয়া করিনা মাচাদো— তোমার সাহস, সততা ও মানবিক আদর্শ ভবিষ্যতের জন্য এক উজ্জ্বল পথচিহ্ন হয়ে থাকবে।”
নোবেল কমিটি মারিয়া করিনা মাচাদোকে ২০২৫ সালের শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করেছে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকারের পক্ষে তাঁর অনন্য নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ। আন্তর্জাতিক মহল এই পুরস্কারকে দেখছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে এক নতুন দিগন্ত হিসেবে।