কুমিল্লার মানুষ যুগের পর যুগ ধরে বিভাগ ঘোষণার অধিকার থেকে বঞ্চিত। রংপুর ও ময়মনসিংহের উদাহরণ স্বরূপ, কুমিল্লার জনগণ বিভাগ প্রার্থনায় আন্দোলন করলেও বারবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন ও দ্রুত ঘোষণার দাবিতে আজ বিকেলে নগরের কান্দিরপাড় এলাকায় বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশটি আয়োজন করে ‘বৃহত্তর কুমিল্লা কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশন’ এবং বৃহত্তর কুমিল্লার জনসাধারণ। এতে রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে সাধারণ নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়, যা কান্দিরপাড় থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণের কারণে আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মিছিল ও সমাবেশে মানুষ ‘কুমিল্লা, কুমিল্লা’, ‘তুমি কে আমি কে, কুমিল্লা কুমিল্লা’, ‘কুমিল্লা বিভাগ, কুমিল্লা বিভাগ’ প্রভৃতি স্লোগান দিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে। সমাবেশে বক্তারা সতর্ক করেছেন, সাত দিনের মধ্যে কুমিল্লা বিভাগের ঘোষণার দাবি পূরণ না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্ধ করা হবে। এছাড়া, কুমিল্লা নিয়ে নোয়াখালীর কিছু লোকের আপত্তিকর মন্তব্যের ক্ষোভও প্রকাশ করা হয়।
বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা আমিন-উর-রশিদ (ইয়াছিন) বলেন, “কুমিল্লাকে আর বঞ্চিত করা যাবে না। ষড়যন্ত্র করে বিভাগ আটকে রাখা সম্ভব নয়। আজকের সমাবেশে শিশুরাও এসেছে; এটি দেখায় কুমিল্লার মানুষ ধৈর্যের সর্বোচ্চ পরিচয় দিচ্ছে।”
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা (টিপু) বলেন, “কুমিল্লা সমতট ও ত্রিপুরার রাজধানী। টালবাহানা আর চলবে না। দ্রুত বিভাগ ঘোষণা করা উচিত, না হলে কুমিল্লার মানুষ দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধ করবে।”
জামায়াতের কুমিল্লা মহানগরের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ সমাবেশে অংশ নিয়ে বলেন, “কুমিল্লার মানুষের দাবির সঙ্গে জামায়াত একাত্ম। পূর্বের প্রশাসনিক কারণে বিভাগ হয়নি, কিন্তু জনগণ এখন এক সঙ্গে আন্দোলন করছে।”
বৃহত্তর কুমিল্লা কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি টিপু চৌধুরী বলেন, “কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণার সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত। নোয়াখালীর কিছু লোক আপত্তিকর মন্তব্য করেছে, আমরা তাদের প্রতিবাদ করেছি। জনগণ এখনো ধৈর্যশীল। প্রয়োজন হলে রাস্তায় নেমে দাবী আদায় করা হবে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুজ্জামন আমির, কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক আবুল কাশেম, কল্যাণ পার্টির মহানগরের সভাপতি শহীদুর রহমান, এবি পার্টির মহানগরের আহ্বায়ক জি এম সামদানী, ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম, তোফায়েল আহমেদ, প্রবাসী সোহেল রানা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইসরাত জাহান এবং মঞ্জুরুল ইসলাম।