বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা বর্তমানে নির্ভর করছে তাঁর মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির ওপর। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার মতো স্থিতি তৈরি হলে তারেক রহমান সিঙ্গাপুর বা সংশ্লিষ্ট দেশে যেতে পারেন; আর পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে তিনি দ্রুতই দেশে ফিরে আসবেন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীতে একাধিক অনুষ্ঠান ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণের পরই তারেক রহমান দেশে ফেরার সময়সূচি নির্ধারণ করবেন। কোনো সন্দেহ বা সংশয়ের সুযোগ নেই—তিনি ফিরবেন।”
দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার চীন ও যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আরও দুটি দল ঢাকায় পৌঁছাবে। খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে তাঁকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দেবেন তাঁরা। এই মতামতের ওপরই মূলত নির্ভর করছে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সময়।
এভারকেয়ার হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থার হঠাৎ অবনতির পর রবিবার রাতে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। প্রায় ৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা ও শ্বাসতন্ত্রজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে তারেক রহমান দীর্ঘ দিনের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরবেন। সোমবার রাতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “তারেক রহমান খুব শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরবেন।”
গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান নিজেও মায়ের পাশে থাকার প্রবল ইচ্ছার কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, “মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার কারণে সব সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া সম্ভব নয়।”
তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, তিনি চাইলে এক দিনের মধ্যেই ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে। তবে এখনো পর্যন্ত তিনি পাসের জন্য আবেদন করেননি।
এদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশে ফিরলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। সরকার সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২০০৭ সালের এক-এগারোর সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। এরপর থেকে গত প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি লন্ডনেই অবস্থান করছেন।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিভিন্ন মামলায় রায় বাতিল ও আইনি সুবিধা পাওয়ার পর থেকেই তাঁর দেশে ফেরার জোর আলোচনা শুরু হয়।
চিকিৎসকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকাই এখন নির্ধারণ করে দেবে—তারেক রহমান আগে বিদেশে মাকে দেখতে যাবেন, নাকি সরাসরি বাংলাদেশে ফিরবেন। বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি ‘খুব শিগগিরই’ দেশে ফিরছেন।