দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এবার পড়েছে ক্রিকেট মাঠেও। সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা ও বিমান হামলার জেরে আসন্ন ত্রিদেশীয় টি–টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।
গত শুক্রবার আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের আরগুন জেলায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিন স্থানীয় ক্রিকেটার নিহত হন। নিহতদের নাম কবির, সিবঘাতুল্লাহ ও হারুন। জানা গেছে, তারা প্রদেশের রাজধানী শারানায় একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন।
এসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। নিহত ক্রিকেটারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আসন্ন ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
আগামী ১৭ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের লাহোর ও রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে এই ত্রিদেশীয় সিরিজের। সূচি অনুযায়ী, ফাইনালের আগে অন্তত দুটি ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের।
এই হামলার পর আফগান ক্রিকেটাররা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। আফগান অধিনায়ক রশিদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন,
“পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিরীহ নারী, শিশু ও তরুণ ক্রিকেটারদের প্রাণহানিতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। সাধারণ মানুষের ওপর হামলা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এটি বর্বরতার শামিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ থেকে সরে দাঁড়ানোর এসিবির সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই—কারণ জাতীয় মর্যাদা সবার আগে।”
অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী বলেন, “এই হামলা শুধু পাকতিকার নয়, পুরো আফগান ক্রিকেট পরিবারের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।”
পেসার ফজলহক ফারুকি একে ‘ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং ঘাতকদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সীমান্ত উত্তেজনা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানের মাটিতে আফগানিস্তানের অংশগ্রহণে প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের স্বপ্ন ভেঙে গেল।