বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের জনগণ সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি কখনোই গ্রহণ করবে না। এই পদ্ধতি জনগণের কাছে অচেনা এবং এর মূল উদ্দেশ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা।
রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল আলম মিলনায়তনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হয় ডেমোক্রেটিক লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মণির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা ১৫ বছর পর ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে বেরিয়ে এসে নতুন আশার পথে হাঁটছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। আমরা চাই, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নিজের সরকার বেছে নিক।”
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, “বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিএনপি নিজেই সংস্কারের ফসল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”
তিনি জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করেছে এবং ১৭ অক্টোবর কিছু প্রস্তাবে সই হওয়ার কথা রয়েছে। “আমরা চাই এই সংস্কার প্রক্রিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করুক,” বলেন তিনি।
দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত—সবই আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেই রয়েছে সব বাধা অতিক্রম করার শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে একটি গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের আহ্বায়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং সঞ্চালনা করেন এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান।
এসময় জাগপা, গণদল, বাংলাদেশ ন্যাপসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
2 thoughts on "পিআর পদ্ধতি জনগণ মেনে নেবে না, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন চাই: মির্জা ফখরুল"