রাজধানী ঢাকায় ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে স্বল্পমাত্রার কম্পন অনুভূত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬, উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল। কম্পনের স্থায়িত্ব খুবই স্বল্প ছিল, তবে রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন ভবন সাময়িকভাবে কেঁপে ওঠে। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ভবন থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন।
এর আগে গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকার নিকটবর্তী নরসিংদীর মাধবদীতে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূগর্ভ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থানকারী ওই কম্পন সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র ছিল। এতে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
গত শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৩১ ঘণ্টায় চারবার এবং তারপর থেকে আজ পর্যন্ত মোট ছয়বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট ও কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগর উপকূলেও কম্পন রেকর্ড করেছে ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC)।
২১ নভেম্বর – ৫.৭ মাত্রা (উৎপত্তিস্থল: মাধবদী, নরসিংদী)
পরদিন শনিবার – ৩.৩ মাত্রা (নরসিংদীর পলাশ)
একই দিন সন্ধ্যায় – দুটি ভূমিকম্প (ঢাকার বাড্ডা ও নরসিংদী)
আজ বিকেল ৪:১৫:২০ মিনিট – ৩.৬ মাত্রা (ঘোড়াশাল, নরসিংদী)
আজ ভোররাত ৩:৩০ মিনিটের মধ্যে দুটি ভূমিকম্প – কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগর (৪ মাত্রা) ও সিলেট (৩.৪ মাত্রা)
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানান, এ অঞ্চলের ভূ-কম্পন সক্রিয়তার মূল কারণ হলো বার্মা প্লেট ও ইন্ডিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল বা সাবডাকশন জোন। তার মতে, “২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পটি ছিল দেশের ইতিহাসে স্মরণকালের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ। এ ধরনের ধারাবাহিক ভূমিকম্প বড় ধরনের বিপর্যয়ের পূর্বসংকেত হতে পারে।”
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, “আজকের ভূমিকম্পকে ‘ফোরশক’ হিসেবে ধরা যেতে পারে। বড় কোনো কম্পনের আগে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।”
ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব না হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প প্রতিরোধী নকশা ও কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি ভূমিকম্প পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।