প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল নতুন বাজারে পৌঁছালে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া বিজেপির কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে নতুন বাজার থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল, দোকান ও রাজনৈতিক ব্যানার-পোস্টার ভাঙচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ভোলা সদর থানার উপপরিদর্শক আউয়াল, দৈনিক আজকের ভোলা পত্রিকার সহসম্পাদক এম শাহরিয়ার ঝিলন এবং নিউজ২৪-এর ক্যামেরাপারসন রানা ইসলাম।
খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন বাজার ও বিজেপি জেলা কার্যালয়ের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভোলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। দুই পক্ষই দাবি করছে, তাদের ৫০ জনের বেশি কর্মী আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়েছে।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাত মো. হাছনাইন পারভেজ বলেন,
“পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। বিএনপি অনুমোদিত পথ না মেনে নতুন বাজারমুখী হওয়াতেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আইন অমান্য করে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংঘর্ষের পর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সদস্যসচিব রাইসুল আলম অভিযোগ করেন,
“আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে বিজেপির কর্মীরা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই হামলা।”
অন্যদিকে, জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ বলেন,
“আমরা পুলিশের অনুমতি নিয়ে সভা করছিলাম। বিএনপির একটি পক্ষ হঠাৎ আমাদের কার্যালয়ে হামলা চালায়। এতে আমাদের ২৪ জন আহত হয়েছেন।”
বর্তমানে ভোলা শহরের নতুন বাজার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে আছে।