মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ডিসেম্বরে তফসিল, ফেব্রুয়ারিতে ভোট—চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ইসি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা ইমরান খানকে নিয়ে গুজব থামছে না: পরিবার–আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা বন্ধ, উদ্বেগে সমর্থকরা তারেক রহমান দেশে ফেরার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে পরিবারকে বেত্রাঘাত ও জরিমানা বাংলাদেশে আবার ভূমিকম্প, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে নির্বাচন করতে চান এনসিপি’র এহসানুল করিম তানজিল ঘরে বসেই রিচার্জ হবে মেট্রোরেল কার্ড: ডিজিটাল সেবায় বড় অগ্রগতি মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, একাধিক আসনে বিক্ষোভ–সমঝোতার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

নির্বাচনের আগে সংঘাতের আশঙ্কা, ধর্মীয় বিভাজন বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

  • আপডেট টাইম শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৭২ বার পঠিত
নির্বাচনের আগে সংঘাতের আশঙ্কা, ধর্মীয় বিভাজন বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম
তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

নির্বাচনের আগে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি মনে করেন, এখন পর্যন্ত সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানের কারণে। তবে সবাই সংঘাতের জন্য মুখিয়ে আছে এবং অদূর ভবিষ্যতে সেটি দৃশ্যমান হতে পারে।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচার বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত ‘মাজার সংস্কৃতি: সহিংসতা, সংকট ও ভবিষ্যৎ ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। সংলাপের আয়োজন করে সুফি সম্প্রদায় নিয়ে গবেষণা করা প্ল্যাটফর্ম ‘মাকাম’

মাহফুজ আলম বলেন, “বাংলাদেশ এখন এক ক্রিটিক্যাল পর্যায়ে আছে। সবাই সংঘাতের জন্য প্রস্তুত, আর যদি এতে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ যোগ হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”

তিনি জানান, আওয়ামী লীগ বর্তমানে বিভিন্ন দরবার ও মাজারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে—এই প্রচেষ্টা রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করার দিকেও ইঙ্গিত দেয়। তাঁর মতে, সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদ কমিটি ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের নেতৃত্ব বদলে যায়—এটি দীর্ঘ ৫০ বছরের পুরোনো একটি বাস্তবতা।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ হয়তো কমেছে, কিন্তু সামাজিক ফ্যাসিবাদ এখনো রয়ে গেছে। ইসলামের বিভিন্ন ধারার মধ্যে সংলাপ ও সংযোগ না ঘটলে রাষ্ট্র আরও অনিশ্চয়তার দিকে যাবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, দেশের ৯০–৯২ শতাংশ মুসলমান বিভিন্ন তরিকার অনুসারী হলেও, রাজনৈতিক দলগুলো কখনো ঐক্যবদ্ধ ধর্মীয় নীতিনির্ধারণে মনোযোগ দেয়নি; বরং বিভাজনকেই পুঁজি করেছে।

গত ১৫ বছরে সুফি ঘরানার অনুসারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই সম্পর্কের কারণেই ধর্মীয় রাজনীতি এক জায়গায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কওমিরাও এর বাইরে নয়, তারাও রাজনীতির অংশ হয়ে ব্যবহৃত হয়েছে।”

আরো পড়ুনঃ একাত্তরের বিচার নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের নতুন অভিযোগ

 

মাহফুজ আলম আরও দাবি করেন, কিছু মুসলিম রাষ্ট্রের দূতাবাস মাজার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কাজ করছে। তাঁদের আদর্শিক প্রভাবও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, “ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর আন্দোলন বা সহিংসতা নিয়ে ভয় না পেয়ে, রাষ্ট্রকে এই সংকট নীতিনির্ধারণের পর্যায় থেকে দেখতে হবে। না হলে এই বিভাজন আরও গভীর হবে।”

মাজারে সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, হামলার ঘটনায় বহুজন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মাজারগুলো পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি মাজার পরিচালনাকারীদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করেন—
“এই সহিংস সংস্কৃতি যদি চলতে থাকে, তাহলে আজ সুফিদের ওপর হামলা, কাল কওমিদের ওপর—এভাবে এই চক্র চলতেই থাকবে। এটি এখনই বন্ধ করা জরুরি।”

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© 2026 The Bengal Bulletin. All rights reserved.
Skip to toolbar