ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ –
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো আজ। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫” স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন ঐক্যের আবহ।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সনদ স্বাক্ষরকে বাংলাদেশের রাজনীতির এক “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে কমিশনগুলো গঠন করেছিল, তারা দীর্ঘ আট মাস নিরলস পরিশ্রমের পর আজ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আমি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, সব রাজনৈতিক দল, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং সংস্কার কমিশনের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আমরা ঐক্যের সুরে বাজালাম এক নতুন সঙ্গীত। যারা স্বাক্ষর করেছেন, তারা প্রয়োজনে আবার বসে ঠিক করবেন কীভাবে নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করা যায়। জনগণের নির্বাচন জনগণ নিজেরাই করবে—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এই সনদ শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে ৩০০ সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিধান আছে—এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব শুধু নির্বাচন পরিচালনা নয়, সংবিধান অনুযায়ী তা নিশ্চিত করাও। যদি প্রধান উপদেষ্টা আলাপ-আলোচনা করতে চান, আমরা সবসময় আলোচনাকে স্বাগত জানাই।”
জুলাই সনদে বিএনপি, জামায়াতসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করে। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ নেতারা, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ ২০২৫ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নতুন বিশ্বাস, ঐক্য ও সংস্কারের এক প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।
One thought on "মির্জা ফখরুল: জুলাই সনদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা"