মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ডিসেম্বরে তফসিল, ফেব্রুয়ারিতে ভোট—চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ইসি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা ইমরান খানকে নিয়ে গুজব থামছে না: পরিবার–আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা বন্ধ, উদ্বেগে সমর্থকরা তারেক রহমান দেশে ফেরার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে পরিবারকে বেত্রাঘাত ও জরিমানা বাংলাদেশে আবার ভূমিকম্প, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে নির্বাচন করতে চান এনসিপি’র এহসানুল করিম তানজিল ঘরে বসেই রিচার্জ হবে মেট্রোরেল কার্ড: ডিজিটাল সেবায় বড় অগ্রগতি মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, একাধিক আসনে বিক্ষোভ–সমঝোতার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

সাবেক সচিবের গাড়িচালকের পুকুরে সেতু: ৩১ লাখ টাকায় ‘ব্যক্তি স্বার্থের’ সরকারি প্রকল্প!

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৭৬ বার পঠিত

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সাবেক সচিবের গাড়িচালকের ব্যক্তিগত পুকুরে প্রবেশের সুবিধার জন্য সরকারি অর্থে সেতু নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ৩১ লাখ টাকার ব্যয়ে নির্মিত এ কালভার্ট সেতুটি এমন স্থানে করা হয়েছে, যেখানে আশেপাশে কোনো বসতবাড়ি বা রাস্তা নেই। স্থানীয়রা বলছেন, এটি জনগণের নয়, বরং ব্যক্তিস্বার্থে তৈরি “ক্ষমতার অপব্যবহারের” একটি দৃষ্টান্ত।

অপ্রয়োজনীয় স্থানে ৩১ লাখ টাকার সেতু

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (এমএসআরডিপি) আওতায় ডামুড্যা উপজেলার চরধানকাটি আদাসন দরবার শরীফ সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়।
৩১ লাখ ১২ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি সম্পন্ন করে মিনহাজ ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির একপাশে বড় একটি পুকুর ছাড়া আশেপাশে নেই কোনো ঘরবাড়ি কিংবা সংযোগ সড়ক। স্থানীয়দের দাবি, এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিবের গাড়িচালক মোকসেদ সরদারের পুকুরে প্রবেশের জন্য। ভবিষ্যতে সেখানে বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনাও করেছেন তিনি।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সুমন বলেন,

“৩১ লাখ টাকা নষ্ট করে এমন জায়গায় ব্রিজ করেছে যেখানে কেউ চলাচলই করে না। সামনে শুধু দুইটা পুকুর। এটা কোনো প্রভাবশালী লোক নিজের স্বার্থে করেছে। এটা সরকারের টাকার অপচয়।”

আরেকজন বাসিন্দা ইব্রাহিম মোল্লা বলেন,

“খালের ওপারে যেখানে ঘরবাড়ি আছে, সেখানে সাঁকো দিয়ে মানুষ চলাচল করে। সেখানে সেতু বানানো হলে সবার উপকার হতো। অথচ সেতু বানানো হয়েছে এমন জায়গায়, যেখানে মানুষই নেই।”

দপ্তরের দায়সারা ব্যাখ্যা

ডামুড্যা উপজেলা প্রকৌশলী আবু নাঈম নাবিল বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,

“আমরা উপজেলা থেকে এ প্রকল্প পাঠাইনি। ওই গাড়িচালক সচিবের তদবিরে প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে ঢুকিয়েছে। পরে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) চিঠি পাঠান বাস্তবায়নের জন্য। আমি সরকারি কর্মকর্তা, তাই নির্দেশ পালন করা ছাড়া উপায় ছিল না।”

অন্যদিকে জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম. রাফেউল ইসলাম বলেন,

“ব্যক্তি স্বার্থে ব্রিজ দেওয়া হয়নি। তখন বলা হয়েছিল, এর পাশ দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণ করে গ্রামের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হবে। সেই কারণেই সেতুটি করা হয়।”

তবে কেন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে নয়, এমন জায়গায় সেতুটি নির্মাণ হলো—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,

“আমরা স্থানীয় সরকারের অধীনে কাজ করি। জনপ্রতিনিধিরা যেমন প্রস্তাব দেন, আমরা তেমন করেই কাজ করতে বাধ্য।”

আরো পড়ুনঃজাতীয় সঞ্চয়পত্র জালিয়াতি

 

জনগণের প্রশ্ন: কার স্বার্থে এই প্রকল্প?

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্মিত প্রকল্প যদি সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে না আসে, তবে সেটি জনগণের নয়, কেবল প্রভাবশালীদের স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়।
তারা দাবি করেছেন, ব্যক্তি স্বার্থে এমন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© 2026 The Bengal Bulletin. All rights reserved.
Skip to toolbar