বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির দাবি, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব যেন সরকার নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে দলটি।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে সংলাপে বিএনপি, নাগরিক ঐক্য, গণ অধিকার পরিষদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) এবং রিপাবলিকান পার্টিসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন,
“রিটার্নিং অফিসার আপনাদের নির্বাচন কমিশন থেকে থাকবে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার আপনাদের কমিশনের ডেডিকেটেড কর্মকর্তারাই হবেন। এই একটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে পারে।”
বর্তমানে জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসক (ডিসি), বিভাগীয় কমিশনার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বিএনপির মতে, এই প্রক্রিয়া সরকারের প্রভাবের সুযোগ তৈরি করে।
আবদুল মঈন খান মন্তব্য করেন,
“প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চারটি বোতাম – ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ৩০০ আসনের ফলাফল নির্ধারিত হয়। এ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আসতেই হবে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি সরকারের কাছে নতজানু না হয়ে শক্ত অবস্থান নেয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। পাশাপাশি তিনি ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং ইসিকে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সাহসী পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান,
“আমরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান এই সংলাপ ছিল ইসির শেষ পর্ব, যেখানে অংশগ্রহণকারী দলগুলো নিজেদের মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করে।