পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন মিলতে পারে— এমন দাবি করেছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলী খান। তিনি বলেছেন, ১১ জুন ২০২৫-ই ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির জন্য “গুরুত্বপূর্ণ দিন” হতে যাচ্ছে। দ্য ইকোনমিক টাইমস ও এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে গওহর জানান, ওইদিনের শুনানিতে জামিনের ‘আশাবাদী’ তারা।
ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) ইতোমধ্যে আল-কাদির ট্রাস্ট-সংক্রান্ত ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড কেসে ইমরান খান ও বুশরা বিবির সাজা স্থগিতের আবেদন ১১ জুন তালিকাভুক্ত করেছে। আগের শুনানিতে জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো (ন্যাব) সময় চাওয়ায় ৫ জুন মামলাটি মুলতবি করে আদালত ১১ জুন নতুন তারিখ নির্ধারণ করে। একই দিনে বুশরা বিবির আপিলও শোনা হবে।
এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গওহর আলী খান বলেন, “১১ জুন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন— আমরা আশা করছি, আদালত তখনই সিদ্ধান্ত দেবেন।” তিনি আরও জানান, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পিটিআই একটি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছে এবং এতে দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানই নেতৃত্ব দেবেন।
শুনানির আগেই ঈদুল আজহার পর দেশব্যাপী আন্দোলনের হুমকি দেন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর। তাঁর ভাষ্যে, ইমরান খানের মুক্তি না মিললে “পূর্ণমাত্রার” আন্দোলন শুরু হবে—এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায় অন্যান্য পিটিআই নেতাদের বক্তব্যে।
কেসের প্রেক্ষাপট ও আইনি অবস্থা
আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি থেকে পাকিস্তানে ফেরত আসা ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও ট্রাস্টের জন্য সুবিধা আদায়ের অভিযোগ ঘিরে। এই মামলায় গত বছরও ইমরান খান জামিন পেলেও অন্য মামলার দণ্ড ও প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তিনি আদিয়ালা কারাগারেই ছিলেন। ফলে ১১ জুন জামিন মিললেও তাৎক্ষণিক মুক্তি মিলবে কি না—তা নির্ভর করবে সমান্তরাল মামলাগুলোর অবস্থার ওপর।
আইএইচসিতে ১১ জুনের কার্যতালিকায় ন্যায়পাল ন্যাবের যুক্তি শোনার পাশাপাশি সাজা স্থগিতের আবেদনগুলোর ‘মেরিট’ যাচাই হবে। আদালত যদি জামিন বা সাজা স্থগিতের আদেশ দেন, তাহলে প্রতিরক্ষা ও রাষ্ট্রপক্ষ— উভয়পক্ষই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ (আপিল/রিভিউ) বিবেচনা করতে পারে। ফলে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন মেললেও তা রাজনৈতিক সমীকরণে তাৎক্ষণিক নাটকীয় পরিবর্তন আনবে— এমন নিশ্চয়তা নেই।
রাজনৈতিকভাবে, পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য আন্দোলনটি কেন্দ্র–প্রদেশ টানাপোড়েন, আইনশৃঙ্খলা ও বিরোধী জোট রাজনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যে বিভিন্ন শহরে গণসমাবেশের প্রস্তুতি, আইনি সহায়তা নেটওয়ার্ক ও সংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিয়েছে; তবে চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ হবে আদালতের নির্দেশনা ও মাঠের পরিস্থিতি দেখে— বলেন দলীয় নেতারা।
সূত্র: এই প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিক টাইমস, এআরওয়াই নিউজ, পাকিস্তান টুডে ও রয়টার্স–সহ বিভিন্ন মাধ্যমের খবর ব্যবহার করা হয়েছে। মূল দাবিগুলো ৭–১২ জুন ২০২৫ সময়কালের প্রকাশনা থেকে গৃহীত।