নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় শুক্রবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের সমাবেশে কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা মামুনুল হক দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচনের দিকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে যদি কেউ উপেক্ষা করে আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতির রূপরেখা নির্ধারণের চেষ্টা করে, তবে তা রাজপথে সংঘর্ষের পথে নিয়ে যেতে বাধ্য হবে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “প্রায় দুই হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে সংগ্রাম হয়েছে, তার চেতনা বাস্তবায়ন না করলে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই গণভোটের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’-কে আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে। এতে আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দেশভক্ত ও বাংলাদেশপন্থী হবে, চীন বা পিণ্ডিপন্থী হবে না।”

হেফাজতে আমীর মামুনুল হক
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটিয়েছে। এখন সেই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা বাস্তবায়ন না করলে দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। মাওলানা মামুনুল হক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করবে, তারা ১৯৭২ সালের বাকশালি সংবিধানের পক্ষের সমর্থক হিসেবেই গণ্য হবে।
নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি শাপলা চত্বরে গণহত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জুমার নামাজের পর অনুষ্ঠিত গণমিছিলেও মাওলানা মামুনুল হক একই ধরনের বার্তা দেন। সমাবেশ ও মিছিলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করতে পারে।
সমাবেশে খেলাফত মজলিসের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, মাওলানা এনামুল হক মূসা, আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে কাজ করছে যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি অব্যাহত থাকবে এবং তা দেশের ভবিষ্যত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
4 thoughts on "মামুনুল হকের হুঁশিয়ারি: “জুলাই সনদ না মানলে নির্বাচনে বাধা দেওয়া হবে”"