রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির কর্মী সমাবেশে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এ সময় জলকামান থেকে রঙিন পানি ছোড়া হয় এবং কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পুলিশ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দিলে এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল পৌনে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের পর থেকেই কাকরাইলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন এলাকা থেকে জাপার নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। সড়কের একপাশে চেয়ার বসিয়ে মঞ্চ তৈরি করা হয়। বিকেল তিনটার কিছু পরই কো–চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।
পুলিশের বাধায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এরপর জলকামান থেকে পানি ছুড়ে এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন জাপা কর্মী আহত হন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, অনুমতি ছাড়াই তারা সড়ক দখল করে কর্মসূচি পালন করায় বাধা দেওয়া হয়েছে।
“এটি ছিল একটি শান্তিপূর্ণ ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। কিন্তু পুলিশ অযাচিতভাবে তা পণ্ড করে দিয়েছে। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশের আচরণ দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অমানবিক ছিল।”
“জাতীয় পার্টি আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছিল কর্মসূচির বিষয়ে, কিন্তু আমরা রাস্তা দখল না করতে বলেছিলাম। তবুও তারা চেয়ার বসিয়ে মঞ্চ তৈরি করে। কয়েকবার সতর্ক করার পরও না সরায় আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি।”
ঘটনার পর কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দলের কার্যালয়ের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়, সড়ক থেকেও চেয়ার ও মঞ্চ সরিয়ে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর পর্যন্ত এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেও জাতীয় পার্টির এই কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরপর কয়েকটি ঘটনার পর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।