জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন–এর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে।
রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই শুনানি শুরু হয়।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং ট্রাইব্যুনালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে।
প্রথমে প্রসিকিউশন তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে, এরপর আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা নিজেদের বক্তব্য রাখবেন। সর্বশেষ ধাপে প্রসিকিউশন যুক্তি খণ্ডন করবে।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হবে।
এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর তাঁর জবানবন্দিতে জানান, গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ৪১ জেলার ৪৩৮টি স্থানে হত্যাকাণ্ড এবং ৫০টিরও বেশি জেলায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
তাঁর জব্দ করা ১৭টি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে আন্দোলন চলাকালীন সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য ফুটে ওঠে।
গত বুধবার এই মামলার ৫৪তম ও শেষ সাক্ষী হিসেবে তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ২৮ কার্যদিবসে মোট ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়।
মামলার অপর দুই আসামির একজন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন। রোববার তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ও শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন সাক্ষীদের জেরা সম্পন্ন করেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রের মোট আয়তন ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠা, যার মধ্যে রয়েছে—
২,০১৮ পৃষ্ঠা তথ্যসূত্র,
৪,০০৫ পৃষ্ঠা জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি,
এবং ২,৭২৪ পৃষ্ঠায় শহীদদের তালিকা।
এই মামলায় মোট ৮১ জন সাক্ষীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।
সব সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হওয়ার পর এখন যুক্তিতর্কের পর্যায় চলছে। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, উপস্থাপিত সাক্ষ্য, ভিডিও প্রমাণ এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হবে।”
One thought on "শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু"