বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এই কথা বলেন।
তিনি বলেন, “এটা ফেব্রুয়ারিতে হবে, এবং বারবার যেমন বলেছি—এটা হবে উৎসবমুখর নির্বাচন। জুলাই সনদ ও নির্বাচন কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; বরং একই প্রক্রিয়ার দুটি ধাপ।”
অধ্যাপক ইউনূস জানান, সরকার ইতিমধ্যেই সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের অঙ্গীকার হলো একটি আনন্দমুখর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, সরকারও তেমনি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।”
বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি, জেএসডি, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ইউনূস বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন, এটি শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসেও অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
তিনি জানান, জুলাই সনদে স্বাক্ষরের জন্য যে কলম ব্যবহার করা হবে, তা সংরক্ষণ করা হবে জাতীয় জাদুঘরে। “এই দলিল জাতির জন্য এক বিশাল সম্পদ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন জানতে পারে, কেমন রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তিতে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছি,” যোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
১৭ অক্টোবর রাজধানীতে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে, যেখানে দেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা উৎসবমুখরভাবে এই সনদে সই করব। সারা জাতি এতে শরিক হবে। এটা আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।”