‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’। সংগঠনটির আহ্বায়ক মাসুদ রানা শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের ১২ নম্বর ফটকের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
মাসুদ রানা বলেন,
“আমরা এই রাষ্ট্রের জন্য, এই জাতির নতুন স্বপ্নের জন্য জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলাম। আমাদের রক্তের বিনিময়ে যে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে, সেখানে আমাদের রক্তের স্বীকৃতি থাকা উচিত ছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সেই স্বীকৃতি অস্বীকার করা হয়েছে।”
তিনি জানান, রবিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলা শহরের মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
“আমাদের এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এটি জনগণের আন্দোলন। আমরা রক্ত দিয়েছি, জীবন দিয়েছি—এখন সেই রক্তের মর্যাদা চাই,” — বলেন তিনি।
মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ অতর্কিতে হামলা চালায়।
“আমাদের পেছন দিক থেকে লাঠিচার্জ শুরু হয়, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। অনেককে বুট দিয়ে পাড়ানো হয়েছে। এমনভাবে আচরণ করা হয়েছে যেন আমরা মানুষ নই,” — বলেন তিনি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে:
(১) ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে নিহতদের ‘শহীদ’ এবং আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
(২) শহীদ পরিবারদের পুনর্বাসন ও আহতদের জন্য আইনি সহায়তার স্পষ্ট রূপরেখা।
(৩) জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতদের জন্য দায়মুক্তি ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন।
মাসুদ রানা আরও জানান, দীর্ঘ এক মাস ধরে তাঁরা সরকার ও ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু “চূড়ান্ত জুলাই সনদে আমাদের কোনো দাবি বাস্তবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি,” — অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন,
“আমরা আশা করেছিলাম, ঐকমত্য কমিশন ও সরকার আমাদের ন্যায্য দাবি বিবেচনা করবে। কিন্তু আজও রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। পুলিশ সংস্কার ছাড়া নতুন বাংলাদেশ সম্ভব নয়।”
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সময় আন্দোলনকারীরা মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
‘জুলাই সনদ’ হলো ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এতে গণতান্ত্রিক সংস্কার, রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন—সনদে তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি নেই