খুলনা | রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫: খুলনা জেলা কারাগারে বন্দিদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ঘটনাটির পরদিন রবিবার সকালে জরুরি পদক্ষেপে তিন হাজতিকে ঢাকার হাই সিকিউরিটি কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারা সূত্র জানায়, শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা জেলা কারাগারে সংঘর্ষ শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে। আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষে প্রায় ৪০–৪৫ জন বন্দি অংশ নেন বলে স্থানীয় গোয়েন্দা ও কারারক্ষীরা জানিয়েছেন।
জেলার মুনীর হুসাইন বলেন, “কারাগারের ভেতরে মারামারির ঘটনা রাতেই কারা হেডকোয়ার্টারকে জানানো হয়। প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজতিকে শনাক্ত করে তালিকা পাঠানো হয়েছে; যাচাই-বাছাই চলছে, তালিকা আরও বাড়তে পারে।” তিনি জানান, রবিবার সকালে কালা তুহিন, গ্রেনেড বাবুর ছোট ভাই রাব্বি ও জিতুকে পুলিশ পাহারায় প্রিজনভ্যানে করে কাশিমপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। কারা হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনায় আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জেল সুপার মো. নাসির উদ্দিন প্রধান জানান, বিকেল পৌঁনে ৫টার দিকে দুই পক্ষের বাকবিতণ্ডা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। “আধাঘণ্টারও বেশি সময় উত্তেজনা চলার পর আমরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি,” বলেন তিনি। গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্যের ভাষ্য, বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কারারক্ষী জানান, শারীরিক নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন সীমিত থাকায় কিছু বন্দি বেপরোয়া আচরণ করছেন এবং নির্দেশ অমান্য করছেন।
আহতের সংখ্যায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি—কেউ গুরুতর আহত হননি; তবে কারারক্ষীদের হিসেবে ৪–৫ জন সামান্য আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গ্রেনেড বাবুর ভাই রাব্বি চৌধুরী, হিরন, রুহান–পলাশ গ্রুপের পলাশ, ‘কালা লাভলু’ হিসেবে পরিচিত লাভলু, সৈকত, মইদুলসহ আরও কয়েকজনের নাম আসে। ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় জেল সুপারের নেতৃত্বে দ্রুত কারারক্ষীরা সংশ্লিষ্ট ব্লকে গিয়ে অভিযুক্তদের পৃথক কক্ষে সরিয়ে দেন।
খুলনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌফিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, “দুই মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।” কারাগার-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, খুলনায় মাদক ব্যবসা ও এলাকাভিত্তিক আধিপত্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে ধারাবাহিক সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা হয়েছে, তার রেশ কারাগারের ভেতরেও বিদ্যমান। আদালতে হাজিরা বা কারাগারে মুখোমুখি হলে দুই গ্রুপের অনুসারীরা একে অপরকে কটূক্তি করতেন—শনিবারের সংঘর্ষ তারই ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারাগারে উচ্চঝুঁকির বন্দিদের ‘সিকিউরিটি ক্লাসিফিকেশন’ শক্ত করা, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো, এবং বিবদমান গ্রুপগুলোকে আলাদা ডিভিশনে রাখা—এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর হতে পারে। কারা হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী, শনিবারের ঘটনার ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে কারা-সূত্রের ইঙ্গিত।
One thought on "খুলনা জেলা কারাগারে সংঘর্ষ: জরুরি পদক্ষেপে ৩ জন কাশিমপুরে"