মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ডিসেম্বরে তফসিল, ফেব্রুয়ারিতে ভোট—চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ইসি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা ইমরান খানকে নিয়ে গুজব থামছে না: পরিবার–আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা বন্ধ, উদ্বেগে সমর্থকরা তারেক রহমান দেশে ফেরার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে পরিবারকে বেত্রাঘাত ও জরিমানা বাংলাদেশে আবার ভূমিকম্প, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে নির্বাচন করতে চান এনসিপি’র এহসানুল করিম তানজিল ঘরে বসেই রিচার্জ হবে মেট্রোরেল কার্ড: ডিজিটাল সেবায় বড় অগ্রগতি মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, একাধিক আসনে বিক্ষোভ–সমঝোতার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

স্টার্কের ১৭৬.৫ কিমি গতির ডেলিভারি: অবাক করা ‘রেকর্ড’ না ভয়াবহ প্রযুক্তিগত ত্রুটি?

  • আপডেট টাইম রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৩৫ বার পঠিত
পার্থে রবিবারের ম্যাচে টিভি গ্রাফিক্সে স্টার্কের বলের গতি ১৭৬.৫ কিমি/ঘণ্টা দেখায়; পরে সেটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে নিশ্চিত হয়।
পার্থে রবিবারের ম্যাচে টিভি গ্রাফিক্সে স্টার্কের বলের গতি ১৭৬.৫ কিমি/ঘণ্টা দেখায়; পরে সেটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে নিশ্চিত হয়।

 

অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্কের একটি ডেলিভারি নিয়ে সামাজিকমাধ্যম থেকে টিভি স্টুডিও—সবখানেই রোববার (১৯ অক্টোবর) ‘তুফান’ বয়ে যায়। কারণ, সম্প্রচারের গ্রাফিক্সে দেখায়, বলটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১৭৬.৫ কিমি। প্রশ্ন ওঠে—তবে কি দুই দশক পর ভাঙল শোয়েব আখতারের ঐতিহাসিক বিশ্বরেকর্ড? দ্রুতই স্পষ্ট হয়, “স্টার্কের ১৭৬.৫ কিমি গতির ডেলিভারি” দাবিটি আসলে একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল; নতুন কোনো রেকর্ড হয়নি।

প্রাপ্ত যাচাইকৃত তথ্যে দেখা যায়, অন্যান্য সম্প্রচার সংস্থার ডেটা ও বিকল্প মাপজোকে বলটির প্রকৃত গতি ছিল ১৪০.৮ কিমি/ঘণ্টা—স্টার্কের স্বাভাবিক গতির সঙ্গেই যে তা খাপ খায়। মাঠের ঘটনাচিত্রও সেটিই ইঙ্গিত করে: স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটার রোহিত শর্মা অনসাইডে বলটি ঠেলে অনায়াসে এক রান নেন। সত্যিকারের ১৭৬.৫ কিমি/ঘণ্টা হলে এমন স্বাচ্ছন্দ্য দেখানো কার্যত অসম্ভব।

পুরোনো রেকর্ড অক্ষতই রইল

২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শোয়েব আখতার ১৬১.৩ কিমি/ঘণ্টা গতির ডেলিভারির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুত বলের সরকারি রেকর্ড গড়েছিলেন। স্টার্ককে ঘিরে রবিবারের বিভ্রান্তি কাটার পর স্পষ্ট—সেই রেকর্ড আজও অক্ষত। শোয়েবের ডেলিভারিটি তখনকার স্বীকৃত পরিমাপক ও ম্যাচ-লগের সঙ্গে মিলিয়েই নথিভুক্ত হয়; সেদিক থেকে স্টার্কের ঘটনাটি পরিষ্কারভাবে ভিন্ন প্রকৃতির।

বিভ্রান্তির উৎস কোথায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রচারের রাডার/সেন্সর মিসঅ্যালাইনমেন্ট, বল ট্র্যাকিংয়ের ক্যালিব্রেশন ত্রুটি, অথবা গ্রাফিক্স ফিডে ডেটা-ম্যাপিং ভুল—এ ধরনের যেকোনো একটি কারণেই এমন ‘আকাশছোঁয়া’ সংখ্যা হঠাৎ স্ক্রিনে ভেসে উঠতে পারে। ম্যাচের মাঝখানে ক্যামেরা বদল, ফ্রেম-রেটের সামান্য অসামঞ্জস্য, এমনকি নিকটবর্তী চলমান বস্তুর (ফিল্ডারের থ্রো, ব্যাটার-আনস) ডেটা ভুল করে বল হিসেবে ধরা পড়লেও গতিমাপক অস্বাভাবিক রিডিং দেখাতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে স্টার্কের ১৭৬.৫ কিমি গতির ডেলিভারি টিকারলাইনে এলেও, সেটি ছিল ‘রিডিং আউটলিয়ার’—যা পরবর্তী যাচাইয়ে বাতিল হয়েছে।

মানবদেহের সীমা ও ক্রিকেটের বায়োমেকানিক্স

ভারতের সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর এক ব্যাখ্যায় বলা হয়, মানবদেহের কাঠামোগত সীমা বিবেচনায় ক্রিকেটে এমন গতি অর্জন বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। তুলনামূলকভাবে সহজ হাতের অ্যাকশন থাকা বেসবল-এও সর্বোচ্চ গতি সাধারণত ১৭৪–১৭৭ কিমি/ঘণ্টার সীমা স্পর্শ করে; ক্রিকেটে কাঁধ-কনুই-কবজির সমন্বয়, দৌড়ের রিদম ও রিলিজ-পয়েন্ট মিলিয়ে বায়োমেকানিক্যাল চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। ফলে ১৭৬.৫ কিমি/ঘণ্টার মতো সংখ্যা মাঠের প্রতিক্রিয়া, ভিডিও-ফ্রেম ও বিকল্প ডেটার সঙ্গে মেলে না—এটাই যুক্তিযুক্ত বিশ্লেষণ।

কী শিখল সম্প্রচারপক্ষ?

এই ঘটনাটি সম্প্রচার প্রযুক্তির গুণগত নিশ্চয়তা (QA)রিয়েল-টাইম ভেরিফায়েড ডেটা-পাইপলাইনের গুরুত্ব নতুন করে মনে করিয়ে দিল। সাধারণত ব্রডকাস্ট টিম ম্যাচের আগে হার্ডওয়্যার ক্যালিব্রেট করে, টেস্ট থ্রো/ডেলিভারিতে রেফারেন্স স্পিড মিলিয়ে নেয় এবং বিকল্প উৎস (উদাহরণ: বল-ট্র্যাকিং/হক-আই) দিয়ে ক্রস-চেক করে। এখানকার বিচ্যুতি দর্শকের আস্থা ক্ষুণ্ন করে ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি তোলে। সুতরাং প্রযুক্তির নির্ভরতার পাশাপাশি দ্রুত সংশোধন ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা—দুটিই অপরিহার্য।

সব মিলিয়ে, স্টার্কের ১৭৬.৫ কিমি গতির ডেলিভারি স্ক্রিনে যতটা ‘বিস্ফোরক’ দেখালেও, বাস্তবে তা ছিল একটি প্রসারণ-তথ্যগত ভুল। মাঠের মাপজোক, ব্যাটারের প্রতিক্রিয়া ও বিকল্প সম্প্রচার ডেটা—তিন ক্ষেত্রেই সত্য প্রমাণিত: নতুন কোনো বিশ্বরেকর্ড হয়নি; শোয়েব আখতারের ১৬১.৩ কিমি/ঘণ্টাই এখনো সর্বোচ্চ সরকারি গতি।

আরো পড়ুনঃ

নিউজটি শেয়ার করুন..

One thought on "স্টার্কের ১৭৬.৫ কিমি গতির ডেলিভারি: অবাক করা ‘রেকর্ড’ না ভয়াবহ প্রযুক্তিগত ত্রুটি?"

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© 2026 The Bengal Bulletin. All rights reserved.
Skip to toolbar