ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২৫: অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রদর্শনী ও স্পিনারদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে স্রেফ উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ। সিরিজের অলিখিত ফাইনালে সফরকারীদের ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা। ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে রানের দিক থেকে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়।
এর আগে ২০২৩ সালে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮৩ রানের জয়টি ছিল তালিকার শীর্ষে। আজকের এই দাপুটে জয়ে বাংলাদেশ ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থানে না থাকলেও মূল্যবান পয়েন্ট অর্জন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালান দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান।
ওপেনিং জুটিতেই রেকর্ড, তবু আক্ষেপ
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ ওপেনিং জুটি নিয়ে যে সমালোচনা ছিল, তার সবটাই যেন এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিলেন সৌম্য-সাইফ। শুরু থেকেই ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর চড়াও হন তারা। মাত্র ৯৩ বলে ১০০ এবং ১২৮ বলে ১৫০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন এই দুই ব্যাটার।
তাদের এই ১৭৬ রানের জুটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটির রেকর্ড। তারা পেছনে ফেলেন ১৯৯৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গড়া শাহরিয়ার হোসেন ও মেহরাব হোসেনের ১৭০ রানের জুটিকে। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটির রেকর্ডটি (২৯২ রান) লিটন দাস ও তামিম ইকবালের দখলে।
দুর্দান্ত ব্যাট করতে থাকা সাইফ হাসান ৭২ বলে ৬টি চার ও ৬টি ছক্কার সাহায্যে ৮০ রান করে রস্টন চেজের বলে আউট হলে এই বিধ্বংসী জুটি ভাঙে। সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকা সৌম্য সরকারও আক্ষেপ নিয়ে ফেরেন। মাত্র ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন তিনি। আকিল হোসেনের বলে আউট হওয়ার আগে ৮৬ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৯১ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি।
মধ্যম সারির ব্যর্থতায় সাড়ে তিনশ হলো না
দুই ওপেনার ২৫ ওভার ২ বলে ১৭৬ রান তুলে দিলেও, এই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। নাজমুল হোসেন শান্ত (৫৫ বলে ৪৪) ও তাওহিদ হৃদয় (৪৪ বলে ২৮) অত্যন্ত ধীরগতিতে ব্যাট করেন।
একটা পর্যায়ে মাত্র ৯ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৬), রিশাদ হোসেন (৩) ও নাসুম আহমেদ (১) দ্রুত ফিরে গেলে তিনশো পার করা নিয়েই শঙ্কা জাগে। শেষদিকে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ১৭ ও নুরুল হাসান সোহানের ৮ বলে ১৬ রানের ক্যামিওতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৬ রানের পুঁজি পায় স্বাগতিকরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেন ৪১ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন।
স্পিন বিষে নীল ক্যারিবীয়রা
২৯৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশি স্পিনারদের ঘূর্ণিজালে আটকা পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ আঘাত হানেন। আলিক আথানেজেকে (১৫) এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি।
নিজের পরের দুই ওভারে নাসুম আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয় টপ অর্ডার ধসিয়ে দেন। আকিম অগাস্ট (০) এলবিডব্লিউ ও ব্রেন্ডন কিং (১৮) বোল্ড আউট হলে ৩৫ রানেই ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা।
এরপর আক্রমণে এসে আরেক বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম তুলে নেন ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ শাই হোপের (৪) উইকেট। ১৯তম ওভারে বল করতে এসে রিশাদ হোসেন এক ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন। শেরফান রাদারফোর্ড ও রস্টন চেজকে ফিরিয়ে দিলে ৬৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল
এই ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে রিশাদ হোসেন একটি নতুন রেকর্ড গড়েন। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১২ উইকেট নিয়ে তিনি বাংলাদেশের কোনো স্পিনারের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হলেন। তিনি পেছনে ফেলেন ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আরাফাত সানির নেওয়া ১০ উইকেটের রেকর্ডকে।
শেষদিকে আকিল হোসেন ১৫ বলে ২৭ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। তবে তা যথেষ্ট ছিল না। ৩০ ওভার ১ বলে ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস।
বাংলাদেশের পক্ষে নাসুম আহমেদ ১১ রানে ও রিশাদ হোসেন ৫৪ রানে ৩টি করে উইকেট নেন। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানভীর ইসলাম ২টি করে উইকেট দখল করেন।
One thought on "বড় জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে টাইগারদের বিস্ফোরক সিরিজ জয়"