ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ — বিএনপি মহাসচিবের অভিযোগ মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের নাম করে অনেক নেতাকে ‘মিথ্যা’ মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে শিল্পকলা একাডেমিতে দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখে তিনি এসব অভিযোগ করেন এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও একতা গঠনের আহ্বান জানান।
ফখরুল বলেন, ২০০৯ সালের পরে শুরু হওয়া যুদ্ধাপরাধের বিচারে জামায়াত ও বিএনপির কিছু শীর্ষ নেতা ও নেতৃত্বকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে — তবে, তার অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য নেতাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে জামায়াতের মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, মীর কাসেম আলী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে স্মরণ করেন এবং বলেন যে তাদের মৃত্যুদণ্ড মিথ্যা অভিযোগের ফলাফল হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
অনুষ্ঠানে ফখরুল আরও দাবি করেন যে সরকারের শাসনকালে রাজনৈতিক দূর্নীতি ও নির্যাতনের কারণে বিএনপির দুই হাজারের বেশি সমর্থক নিহত এবং প্রায় এক হাজার সাত শত নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে — এসব ঘটনা তিনি স্বাধীনতা-উত্তর ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেন।
একই সঙ্গে তিনি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে দলগত ঐক্যে এগোবার আহ্বান জানান।
শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানগুলোতে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্বুদ্ধকরণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত ছিল। একই দিনে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন — বিএনপি সরকারে এলে প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগসহ শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “যে জাতি ধর্মীয় ও নৈতিকতার ওপর সমুন্নত থাকে, তার পরাজয় হয় না,” এবং প্রাথমিক শিক্ষায় মূল্যবোধ-ভিত্তিক পরিবর্তনের তাগিদ জানান।
সেমিনারে বক্তারা পশ্চিমা সাংস্কৃতিক প্রভাব, শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার অবক্ষয় ও প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তীব্রভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন ইসলামী দল ও মতাদর্শী সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ত্বরান্বিত প্রজ্ঞাপন ঘোষণার দাবি তোলেন।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে বক্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি দাবি বা স্বাধীন তদন্ত-র প্রতিবেদন এখানে উপস্থাপন করা হয়নি; প্রশ্ন তুলা বা অভিযোগ আদৌ সঠিক কি না—তার নিরীক্ষণ ও যাচাইয়ের জন্য আলাদা সংবাদ-নির্ভর তদন্ত ও অপরপক্ষের প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন হবে।
One thought on "একাত্তরের বিচার নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের নতুন অভিযোগ"