ঢাকা, ২৬ অক্টোবর ২০২৫:
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভা আগামী নভেম্বরে শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। রোববার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহফুজ আলম বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের মোট ২৩টি প্রস্তাবের মধ্যে ১৩টি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাকি প্রস্তাবগুলো বর্তমান সরকারের সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমাদের হাতে এখন আর এক মাসের মতো সময় আছে। নভেম্বরে কেবিনেট মিটিং শেষ হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেবে এবং তখন নতুন কোনো নীতিমালা বা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা সম্ভব হবে না।”
তিনি জানান, সাংবাদিকতা সুরক্ষা আইন অচিরেই কেবিনেটে উঠবে। পাশাপাশি অনলাইন পোর্টালের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে রেখে যাওয়া হবে। নামসর্বস্ব পত্রিকার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “গত এক বছরে যেসব পত্রিকা এক দিনও ছাপা হয়নি, সেগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সাংবাদিক সমাজের সমর্থন পেলে এসব পত্রিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, সরকার সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যা কমিয়ে বিজ্ঞাপনের হার দ্বিগুণ করার পক্ষে। তবে সুবিধা পেতে হলে সাংবাদিকদের জন্য সরকারের নির্ধারিত বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। “যেসব পত্রিকা বেসিক স্যালারি দেয় না, তারা কোনো সুবিধা পাবে না,” তিনি যোগ করেন।
আরো পড়ুনঃ নির্বাচনের আগে সংঘাতের আশঙ্কা
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মালিকানা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “অনেক টিভি লাইসেন্স এখনো আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট গ্রুপের মালিকদের হাতে। বিদেশে বসে তারা লাভের হিসাব গুনছে।”
ওটিটি ও অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, আইসিটি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কনটেন্ট রেগুলেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “ইউটিউবসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যেসব কনটেন্ট থেকে আয় হয়, সেগুলোকে রেগুলেশনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে,” তিনি জানান।
মাহফুজ আলম বলেন, “এই সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল গণমাধ্যমে দলীয় প্রভাব কমানো। আমরা পুরোপুরি সফল না হলেও কিছুটা পরিবর্তন আনতে পেরেছি। শেখ মুজিবের সময়ের মতো কোনো মিডিয়া বন্ধ করতে আমরা চাই না, তাই কোনো গণমাধ্যম বন্ধ করা হয়নি।”
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।