আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভেতর ও বাইরের শক্তির সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “ছোটখাটো নয়, বড় শক্তি নিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হবে। হঠাৎ করে আক্রমণ আসতে পারে, কিন্তু যত ঝড়ঝাপটা আসুক না কেন, আমরা তা অতিক্রম করব।”
আজ বুধবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রতিরক্ষা ও সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লে. জে. (অব.) আব্দুল হাফিজসহ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা, প্রশাসনিক পদায়ন, প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলাসহ চারটি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
“যারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তারা ভেতর-বাহির থেকে কাজ করবে। তাই সাইবার অ্যাটাক ও ডিজইনফরমেশনের বিরুদ্ধে দুই স্তরের কমিটি গঠন করা হচ্ছে,” বলেন শফিকুল আলম।
সভায় জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৯০ হাজার সেনাসদস্য ও ২ হাজার নৌসদস্য মাঠে মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি জেলায় থাকবে একটি করে সেনা কোম্পানি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সেন্ট্রাল ডিসইনফরমেশন মনিটরিং সেল ও কমিউনিকেশন সেল গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এসব সেল উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত কাজ করবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভুয়া তথ্য যাচাই করে সত্যতা প্রকাশ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন,
“এআই-নির্ভর ছবি ও ভিডিও দিয়ে অপপ্রচার ছড়ানো হবে। আমাদের সেটা রিয়েল-টাইমে ঠেকাতে হবে, যেন তা ভাইরাল না হয়।”
নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর করতে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর নির্দেশও দেন ইউনূস। তিনি বলেন, ভোটারদের নির্বাচনী নীতিমালা, ভোট প্রদানের পদ্ধতি ও বিশৃঙ্খলা মোকাবিলার নির্দেশনা জানাতে সংসদ টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হবে।
নির্বাচন কমিশন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে দ্রুত টিভিসি, ডকুমেন্টারি ও ইউটিউব ভিডিও তৈরি করে প্রচারে আনতে বলা হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, আগের তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কর্মকর্তাদের এবার বাদ দেওয়া হবে। কেউ নিজ জেলা বা শ্বশুরবাড়ির এলাকায় দায়িত্ব পাবেন না। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, কর্মদক্ষতা ও গণমাধ্যমে অনিয়মের ইতিহাস—সব কিছু যাচাই করে পদায়ন দেওয়া হবে।
প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভোটের তারিখ ঘোষণা করবে। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেছেন,
“বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি হবে ওয়ান অব দ্য বেস্ট ইলেকশন।”