ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র | ১৯ অক্টোবর ২০২৫:
বিশ্ববিখ্যাত টেক উদ্যোক্তা ও টেসলা সিইও ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব দিয়ে আমেরিকান রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের মধ্যেই এই পদক্ষেপ আসে।
মাস্ক এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ একটি জরিপ পোস্টে প্রশ্ন করেন, “যুক্তরাষ্ট্রে কি এমন একটি রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই, যা মাঝামাঝি অবস্থানের ৮০% মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে?” প্রায় ৮০% অংশগ্রহণকারী ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। পরে মাস্ক লেখেন, “মানুষ কথা বলেছে। সময় এসেছে এমন একটি দলের, যা ৮০% আমেরিকানের কণ্ঠস্বর হবে।”
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুসারে, মাস্ক এই প্রস্তাবিত দলের নাম দিয়েছেন ‘দ্য আমেরিকা পার্টি’, যা তার প্রতিষ্ঠিত ‘আমেরিকা পিএসি’-এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই সুপার পিএসি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন দিতে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিল।
তবে সম্প্রতি মাস্ক ও ট্রাম্পের সম্পর্ক তীব্রভাবে খারাপের দিকে মোড় নেয়। ট্রাম্পের “বিগ, বিউটিফুল বিল” আইনকে মাস্ক “ঘৃণ্য” আখ্যা দিয়ে বিলটি বাতিলের আহ্বান জানান, যা দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
পরবর্তীতে মাস্ক এক পোস্টে ট্রাম্পের নাম জেফরি এপস্টেইনের গোপন ফাইলের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন—যদিও কোনো প্রমাণ দেননি এবং পরবর্তীতে পোস্টটি মুছে ফেলেন। অন্য এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ট্রাম্পকে ইমপিচ করা উচিত, তার পরিবর্তে ভ্যান্সকে আনা উচিত।”
উত্তরে ট্রাম্প তার প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, “মাস্ক এখন বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে,” এমনকি তিনি মাস্ককে “হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে” বলেন।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “যদি মাস্ক ডেমোক্র্যাটদের তহবিল দেন, তার পরিণতি হবে খারাপ।” যদিও তিনি কী ধরনের পরিণতি বোঝাচ্ছেন তা স্পষ্ট করেননি।
তবে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, ‘দ্য আমেরিকা পার্টি’ বাস্তবে গঠন হওয়ার সম্ভাবনা এখনই কম।
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জিমি প্যাট্রোনিস বলেন, “মাস্ক নতুন কোনো দল গঠন করবেন না। এক মাস পর ট্রাম্প ও মাস্ক আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে।”
তবুও এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাস্ক যদি সত্যিই ‘দ্য আমেরিকা পার্টি’ প্রতিষ্ঠা করেন, তা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের ভোটব্যাংকেই গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাস্কের জরিপে প্রায় ৮০% ভোটার নতুন রাজনৈতিক দলের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ সংখ্যা মার্কিন মধ্যপন্থী ভোটারদের অসন্তোষ ও নতুন বিকল্পের খোঁজকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রযুক্তি জগতে মাস্কের প্রভাব যেমন বিশাল, রাজনীতিতেও তা একটি নতুন শক্তি ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।