বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর এবার ইতিহাস সৃষ্টি করল। প্রথমবারের মতো বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারের ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে বাংলায় দিকনির্দেশনা প্রদর্শিত হয়েছে। ইংরেজি, আরবি, হিন্দি সহ আরও কয়েকটি ভাষার পাশাপাশি বাংলা ভাষার অন্তর্ভুক্তি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার এনেছে।
ডিসপ্লে বোর্ডে লেখা নির্দেশনাটি ছিল—
“অনুগ্রহ করে আপনার পাসপোর্টটি প্রস্তুত রাখুন এবং ওয়ালেট ও হোল্ডার থেকে বের করুন।”
এই সাধারণ বার্তাই বিদেশের মাটিতে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
গতকাল বুধবার হিথরো বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এ এই দৃশ্য দেখা যায়। বিমানবন্দরে উপস্থিত অনেক বাংলাদেশি যাত্রী ও প্রবাসী এই উদ্যোগকে “অসাধারণ এক স্বীকৃতি” হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আজিজুল ইসলাম খান বলেন,
“বিমানবন্দরে বাংলায় দিকনির্দেশনা যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান অর্জনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে আমাদের অবদানের এক গর্বিত স্বীকৃতি এটি।”
এর আগে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় বাংলা ভাষার বহুল ব্যবহার দেখা গেছে। ব্যস্ত পাতাল রেলস্টেশন হোয়াইটচ্যাপল-এ ২০২২ সালের মার্চে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় লেখা হয়েছিল “হোয়াইটচ্যাপল স্টেশন”।
তাছাড়া ঐ এলাকার অনেক রাস্তার নামও এখন বাংলায় লেখা—
বাংলা টাউন
ব্রিকলেন
বুক্সটন স্ট্রিট
ফুর্নিয়ার স্ট্রিট
এছাড়া স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নামের মধ্যেও বাংলা সংস্কৃতির উপস্থিতি স্পষ্ট—
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাইমারি স্কুল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্কুল, ও কাজী নজরুল ইসলাম প্রাইমারি স্কুল।
বর্তমানে লন্ডনের আলতাব আলী পার্ক, বার্মিংহামের স্মল হিথ পার্ক, ওল্ডহামসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আটটি স্থায়ী শহীদ মিনার। এসবই প্রমাণ করে— যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি শুধু প্রবাসীদের আবেগ নয়, বরং এটি এখন একটি সাংস্কৃতিক শক্তি।
কমিউনিটি নেতারা মনে করছেন, হিথরো বিমানবন্দরে বাংলার সংযোজন যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষার দৃশ্যমানতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এটি একদিকে যেমন প্রবাসী বাংলাদেশিদের আত্মমর্যাদা বাড়িয়েছে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গর্ব জাগাবে।