ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এরশাদ হালিমকে যৌন নিপীড়নের মামলায় গ্রেপ্তারের পর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে এক শিক্ষার্থীর করা মামলায় আজ শুক্রবার তাঁকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, পরীক্ষাসংক্রান্ত একটি সমস্যার কথা বলে শিক্ষক প্রথমে তাঁকে বাসায় ডাকেন। আলাপচারিতার একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ না করতে ভয় দেখান। অভিযোগ অনুযায়ী একইভাবে একাধিকবার শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে বাসায় ডেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
অধ্যাপক এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসন্তোষ জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের সহসভাপতি আবু নাঈম জানান, অভিযোগ প্রকাশের পর অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী তাঁদের কাছে এই শিক্ষকের যৌন নিপীড়নের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চাপা ছিল, আরও অনেক ভুক্তভোগী সামনে আসতে পারেন।
গতকাল রাতে টিএসসিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যাপক এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। রসায়ন বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অভীক চক্রবর্তী বলেন, অনেক দিন ধরেই জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা তাঁদের এই শিক্ষকের আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করতেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি প্রথমে কক্ষে ডেকে কথা বলতেন, পরে বাসায় যাওয়ার জন্য চাপ দিতেন। গভীর রাতে ফোন করে অসংলগ্ন কথা বলা, ভয়ভীতি দেখানোসহ নানা অনৈতিক আচরণের অভিযোগও ওঠে।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশের মাধ্যমে মামলার তদন্ত চলছে।
আদালতে হাজির হলে এরশাদ হালিমের আইনজীবী তাঁর জামিন আবেদন করেন এবং দাবি করেন যে, তাঁর মক্কেল নির্দোষ। আইনজীবীর বক্তব্য, বিভাগের ভেতর কয়েকজন শিক্ষক তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। তবে আদালত তদন্তের স্বার্থে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।