ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলে বহু খেলোয়াড়ই ইংরেজিতে সাবলীল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার কারণে অনেকেই সময়ের সঙ্গে ভাষায় দক্ষ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু ভারতীয় স্পিন অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল যেন এই প্রথার বাইরে দাঁড়িয়েছেন।
১১ বছরের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত থাকা এই ক্রিকেটারকে সবসময়ই দেখা যায় নিজ মাতৃভাষা হিন্দিতে কথা বলতে। তাঁর মতে, একজন নেতার যোগ্যতা ভাষা নয়, বরং চিন্তা, বোঝাপড়া ও পরিকল্পনা থেকেই আসে।
আসন্ন কলকাতা টেস্টকে সামনে রেখে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অক্ষর প্যাটেল বলেন,
“অনেক দিন ধরে একটা ভুল ধারণা চলছে—শুধু ইংরেজিতে সাবলীল খেলোয়াড়রাই অধিনায়ক হওয়ার যোগ্য। কিন্তু যোগাযোগ আর নেতৃত্বের দক্ষতা আসে সুস্পষ্ট ভাবনা ও পরিষ্কার পরিকল্পনা থেকে, ভাষা জানার ওপর নয়।”
অক্ষরের মতে, একজন অধিনায়কের মূল কাজ হলো নিজের খেলোয়াড়দের বোঝা—তাদের শক্তি, দুর্বলতা এবং কীভাবে সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনা যায়, সেটাই নেতৃত্বের আসল মানদণ্ড।
তিনি আরও বলেন,
“মানুষ ভাবে, ইংরেজি জানে না মানে অধিনায়ক হওয়ার যোগ্য নয়। অথচ অধিনায়ক তো শুধু কথা বলার জন্য নয়। তার দায়িত্ব হলো দলকে বুঝে নেওয়া, খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করা এবং মাঠে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।”
অক্ষর মনে করেন, সমাজে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে—“ভালো ইংরেজি বললেই কেউ নেতা হয়ে যায়।” তিনি বলেন, এই মানসিকতা বদলানো দরকার। ভাষা নয়, নেতৃত্বের মাপকাঠি হওয়া উচিত যোগ্যতা ও বোঝাপড়া।
এ বছর আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অক্ষর প্যাটেল। তাঁর নেতৃত্বে দলটি পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বরে থেকে মৌসুম শেষ করে, অল্পের জন্য প্লে–অফে উঠতে পারেনি।
নিজের নেতৃত্বের দর্শন সম্পর্কে তিনি বলেন,
“আমি চাই দলের পরিবেশ হোক বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত। তবে সবাই যেন দায়িত্বশীল থাকে। জেতার জন্য যা দরকার, সেটা আগে করতে হবে—তারপর উপভোগ করা যাবে। আনন্দের সঙ্গেই সেরা খেলা সম্ভব।”
৩১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার এখন ভারতের ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি দলের নিয়মিত সদস্য। তবে টেস্ট দলে সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম পান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন কলকাতা টেস্টে তাঁর জায়গা নিয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হয়নি। টিম ম্যানেজমেন্ট তিন স্পিনার খেলালে রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে দলে রাখার সম্ভাবনাই বেশি।