মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ডিসেম্বরে তফসিল, ফেব্রুয়ারিতে ভোট—চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ইসি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা ইমরান খানকে নিয়ে গুজব থামছে না: পরিবার–আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা বন্ধ, উদ্বেগে সমর্থকরা তারেক রহমান দেশে ফেরার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে পরিবারকে বেত্রাঘাত ও জরিমানা বাংলাদেশে আবার ভূমিকম্প, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে নির্বাচন করতে চান এনসিপি’র এহসানুল করিম তানজিল ঘরে বসেই রিচার্জ হবে মেট্রোরেল কার্ড: ডিজিটাল সেবায় বড় অগ্রগতি মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, একাধিক আসনে বিক্ষোভ–সমঝোতার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

গণভোট ২০২৫: দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদের পথে বাংলাদেশ – মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণে ঐতিহাসিক ঘোষণা

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২২ বার পঠিত

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ২০২৫: নতুন সংবিধান কাঠামোর পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৫ এবার শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সংবিধানের জন্য এক ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ঘোষণা করেছেন— জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে
গণভোটে পাস হলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ (Bicameral Parliament) চালু হবে।


গণভোটের মূল বিষয়: এক প্রশ্নে চার সংস্কার প্রস্তাব

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এই গণভোটে চারটি বিষয় একটি প্রশ্নে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জনগণ কেবল “হ্যাঁ” বা “না” দিয়ে তাদের মতামত জানাবেন।

গণভোটে যে চারটি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা হলো:

  1. নির্বাচনকালীন সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন: জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে।

  2. দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন: জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।

  3. সংবিধান সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

  4. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন— “জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে”, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই দুই ভোট একসঙ্গে হবে। এতে নির্বাচন হবে “উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী”।


দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ: নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর সূচনা

যদি গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট “হ্যাঁ” হয়, তবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উচ্চকক্ষ বা Upper House চালু হবে।
এই উচ্চকক্ষ গঠিত হবে প্রতিটি দলের জনভোটের অনুপাতে, অর্থাৎ একটি দল যত ভোট পাবে, তত শতাংশ আসন পাবে উচ্চকক্ষে।

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে নতুন এই উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।
এভাবে দেশ একধরনের দ্বিকক্ষীয় সংসদ ব্যবস্থায় প্রবেশ করবে, যেখানে নীতিনির্ধারণ হবে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও আলোচনাভিত্তিক।


সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জুলাই সনদের প্রস্তাব

প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমেই।
তারা প্রথম অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং এরপর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন হবে।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে।
জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত ৩০টি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে:

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,

  • নির্বাচন কমিশনের স্বায়ত্তশাসন,

  • স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ,

  • নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি,

  • দুর্নীতি প্রতিরোধে স্বচ্ছতা।

প্রধান উপদেষ্টা একে বলেছেন “জাতির ঐকমত্যের ঐতিহাসিক অর্জন”।


অর্থনীতি ও লালদিয়া টার্মিনাল নিয়ে আশাবাদ

ভাষণে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন মুহাম্মদ ইউনূস।
আগামী সপ্তাহেই ইউরোপের কোম্পানি এপিএম টার্মিনালস বিভির সঙ্গে ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি সই হবে, যার বিনিয়োগ মূল্য ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
এটি হবে দেশের প্রথম বিশ্বমানের “গ্রিন পোর্ট” এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে ইউরোপের সর্বোচ্চ একক বিনিয়োগ।

অর্থনীতির উন্নতি নিয়েও তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের পর থেকে রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এবং বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই দেশ ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।”


রাজনৈতিক ঐকমত্য ও ভবিষ্যতের বার্তা

অধ্যাপক ইউনূসের ভাষণ ছিল কেবল ঘোষণা নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
তিনি বলেন, “১৩৩ শিশু ও শত শত তরুণ-তরুণীর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলে আমাদের ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণু হতে হবে।”

তাঁর মতে, ২০২৫ সালের নির্বাচন হবে “নতুন বাংলাদেশের সূচনা”।
যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংবিধান সংস্কার ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের পথে একসঙ্গে হাঁটবে।


উপসংহার

আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ শুধু সরকারই বেছে নেবে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার ধরনও নির্ধারণ করবে।
গণভোট ২০২৫ তাই হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অধ্যায়।
এটি সফল হলে বাংলাদেশ প্রবেশ করবে এক নতুন যুগে—যেখানে থাকবে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, ভারসাম্যপূর্ণ ক্ষমতা, এবং প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© 2026 The Bengal Bulletin. All rights reserved.
Skip to toolbar