ভারতের রাজধানী দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে গাড়িচালক উমর নবীর জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার বাড়িটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হওয়া ধ্বংস অভিযান শুক্রবার ভোরে শেষ হয়। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, বিস্ফোরণের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটনার পর ভারতজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কাশ্মীর, হরিয়ানা, দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে বিভিন্ন তথ্য মেলাতে কাজ করছে। ঘটনার সূত্র অনুসন্ধানে এরই মধ্যে উত্তর প্রদেশ থেকে জম্মু–কাশ্মীরের এক মেডিকেল কলেজের অধ্যাপকসহ একজন শিক্ষার্থী ও আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।
ভারত সরকারের নির্দেশে ফরিদাবাদের আল–ফালাহ ইউনিভার্সিটির সমস্ত নথি ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সরকারের দাবি, সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন বা চাকরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিস্ফোরণের ঘটনার তথ্যসূত্র মিলিয়ে দেখার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নথি জব্দ করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টায় উমর নবীর চলাচল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানের ৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে তাঁর গতিপথ শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের আগে তিনি বেশ কিছু সন্দেহজনক স্থানে যাতায়াত করেছিলেন।
এই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৩ জন নিহত হয়েছেন, এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ভারতের মুসলিমপ্রধান অঞ্চলগুলোতে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজেপিশাসিত কয়েকটি রাজ্যে এমন ঘটনা বারবার ঘটেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বাড়িঘর ধ্বংস করার অভিযোগে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে।
পেহেলগামসহ কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক হামলার পরও সন্দেহভাজন মুসলিমদের বাড়িঘর ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। দিল্লির বিস্ফোরণ মামলার পর উমর নবীর বাড়ি ধ্বংস করাকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, এটি জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে নেওয়া জরুরি পদক্ষেপ।
বিস্ফোরণের রহস্য উন্মোচনে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখনো কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর পেছনে কোনো নেটওয়ার্ক কাজ করছিল কিনা — সবকিছুই তদন্তসাপেক্ষ।
ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান লাল কেল্লার কাছে এমন একটি বিস্ফোরণ দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।