রাজধানীর হাইকোর্ট মোড় এলাকায় কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হক হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি—মো. জরেজুল ইসলাম (৩৯) এবং শামীমা আক্তারকে (৩৫)—পাঁচ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জেনিফার জেরিন এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আজ সন্ধ্যায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ তাঁদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানতে প্রয়োজন জিজ্ঞাসাবাদ।
শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। যুক্তি–তর্ক শেষে আদালত দুইজনেরই পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা ও কুমিল্লার পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে জরেজুল ইসলাম ও শামীমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের মধ্যে জরেজুল নিহত আশরাফুল হকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
হত্যার ঘটনায় আশরাফুলের বোন আনজিরা বেগম ১৪ নভেম্বর শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটিতে জরেজুলকে প্রধান আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল হক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁচামাল কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করতেন। ব্যবসার কাজে গত ১১ নভেম্বর তিনি তাঁর বন্ধু জরেজুলের সঙ্গে ঢাকায় আসেন। এরপরই ঘটে এই হত্যাকাণ্ড।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে রিমান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের ধারণা, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, এবং এর সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারেন।
হাইকোর্ট মোড়ের ব্যস্ত এলাকায় এমন একটি হত্যাকাণ্ড জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তদন্ত অগ্রগতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে ঘটনার পেছনের পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার হবে।