ঢাকা, শনিবার (১৫ নভেম্বর ২০২৫): জুলাই বিপ্লব পরিষদের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাদিল আহমেদ ঢাকা-৫ আসনে এনসিপির মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন—এবং সেই অর্থ এসেছে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের দেয়া অনুদান থেকে। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে; কেউ দেখছেন “জনসমর্থনের নৈতিক বার্তা”, কেউ রাখছেন প্রশ্ন—মনোনয়ন কেনায় শহীদ পরিবারের অর্থ গ্রহণ কি রাজনৈতিক নৈতিকতার নতুন মানদণ্ড, নাকি কৌশলগত বার্তা?
মনোনয়ন ফরম কেনার পর সাদিল আহমেদ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার প্রধান অনুপ্রেরণা। এই অর্থকে আমি দোয়া হিসেবে নিয়েছি।” তিনি জানান, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে শহীদ পরিবারের সম্মান ও অধিকার প্রশ্নে তিনি “কোনো আপস” করতে চান না।

জুলাই শহীদ পরিবারের অর্থে এনসিপির মনোনয়ন ক্রয় করলেন সাদিল আহমেদ
জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ি, শনিরআখড়া ও কাজলা এলাকায় সরব ভূমিকা রাখেন সাদিল আহমেদ। গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমদিকে তিনি যাত্রাবাড়ি অঞ্চলের শহীদ ও আহতদের তালিকাবদ্ধ করেন এবং পরবর্তীতে তার সংগঠন শহীদদের স্মরণে দেশের প্রথম স্মৃতি-ফলক উন্মোচন করে। মাঠের এই ধারাবাহিক কাজই তার নির্বাচনী যাত্রায় মূল পুঁজি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কোভিড-১৯ মহামারির চূড়ান্ত সময়ে তিনি কমিউনিটি সাপোর্ট টিম (CST)-এর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেন; খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো ও স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক সমন্বয়ে যুক্ত ছিলেন। “সঙ্কটের সময়ে মানুষই মানুষের ভরসা—সেই জায়গা থেকেই কাজ করেছি,”—যোগ করেন তিনি।
শিক্ষাজীবনে সাদিল আহমেদ ঢাকা কলেজ (অধিভুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এর আগে একই প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক ও এইচএসসি শেষ করেন। এসএসসি সম্পন্ন করেন যাত্রাবাড়ির বর্ণমালা আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় জিপিএ-৫ অর্জনের রেকর্ড রয়েছে তার। পেশাগতভাবে তিনি শিক্ষকতা করেন, যা তরুণ ভোটার ও অভিভাবক সমাজের সাথে সরাসরি যোগাযোগের একটি স্থায়ী সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
পারিবারিক পটভূমিতে তিনি শনিরআখড়ার নয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পৈত্রিক নিবাস চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রাম। তার বাবা এসএসসি শেষ করে ঢাকায় এসে ব্যবসা শুরু করেন; মা গৃহিণী। দাদা মরহুম নুরুল ইসলাম মুন্সি হাবিব ম্যাচ ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন—যা পরিবারে উদ্যোগ ও কর্মনিষ্ঠার দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করায়।
আরও পড়ুন: গণভোট ২০২৫: দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদের পথে বাংলাদেশ – মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণে ঐতিহাসিক ঘোষণা
রাজনৈতিক অর্থায়নে “শহীদ-পরিবারের অনুদান” ব্যবহার করার এই সিদ্ধান্ত প্রশংসা-সমালোচনা দুই-ই ডেকে এনেছে। সমর্থকরা বলছেন, এটি ত্যাগের স্মৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক; সমালোচকদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে তহবিল ব্যবহারের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা জরুরি। সাদিল আহমেদ জানান, মনোনয়ন ক্রয়ের এই অর্থায়ন “সম্মানজনক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার”, এবং ভবিষ্যৎ প্রচার–ব্যয়ের হিসাব “দলীয় নিয়ম মেনে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ” করা হবে।

সাদিল আহমেদ
ঢাকা-৫ আসনে এনসিপির চূড়ান্ত প্রার্থীতা এখনও দলীয় স্ক্রুটিনি ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। তবে যাত্রাবাড়ি–শনিরআখড়া–কাজলা অঞ্চলে তার মাঠভিত্তিক উপস্থিতি, কমিউনিটি নেটওয়ার্ক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সক্রিয়তার অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে আগামীর লড়াইয়ে নিজেকে শক্ত অবস্থানে দেখছেন তিনি। “জনগণের পরামর্শ নিয়েই অগ্রাধিকার ঠিক করব; শহীদের পরিবারের সম্মানই আমাদের রাজনীতির ‘কেন্দ্রবিন্দু’,”—বলেছেন সাদিল আহমেদ।