সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সাত বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। দুই দেশের এই উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় তেল, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং পারমাণবিক জ্বালানি খাতে সম্পর্ক নতুন করে বিস্তৃত করার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।
এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কারণ ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর এটাই যুবরাজ সালমানের প্রথম ওয়াশিংটন সফর। দীর্ঘ বিরতির পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুনভাবে উষ্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইস্তাম্বুলে সৌদি দূতাবাসের ভেতর সাংবাদিক ও সৌদি রাজপরিবারের সমালোচক জামাল খাসোগিকে হত্যা করা হলে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত শেষে জানায়, খাসোগিকে অপহরণ বা হত্যার অনুমোদনে যুবরাজ সালমান জড়িত ছিলেন বলে তাদের বিশ্বাস।
যুবরাজ সালমান সরাসরি হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও তিনি রাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছিলেন।
সৌদি–মার্কিন সম্পর্কের ওপর এই হত্যাকাণ্ড গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সেই ঘটনার কয়েক বছর পর যুবরাজের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের মূল লক্ষ্য তেল খাতে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা আরও দৃঢ় করা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং সবচেয়ে বড় তেল উত্তোলনকারী সৌদি আরব এর আগেও নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে।
ট্রাম্প এবারও মানবাধিকার ইস্যুতে প্রকাশ্য মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দেবেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ট্রাম্প এর আগে সৌদি সফরে যেসব বড় বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলেন, বিশেষ করে প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলারের যে পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়নে এবার জোর দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে। বিশেষ করে ইয়েমেন ও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সহযোগিতা তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া যুবরাজ সালমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার ব্যাপারে আগ্রহী। পাশাপাশি বেসামরিক খাতে পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্পের জন্য নতুন চুক্তি করা নিয়েও আলোচনা এগোনো হতে পারে।
সাত বছরের বেশি সময় ধরে শীতল থাকা কূটনৈতিক সম্পর্ক খাসোগি হত্যাকাণ্ডের ধাক্কা কাটিয়ে আবারও ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করেছে। অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং জ্বালানি—এই চার খাতেই দুই দেশ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।
তাই বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ই নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।